হাসপাতাল ব্যাগে কি কি নিবেন তার একটি তালিকা তৈরি করতে হবে এবং কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। আর তা না নিলে, আপনার স্বামীকে একবার বাসায় আর একবার হাসপাতাল দৌড়াতে হবে। এটি যদি আপনার প্রথম সন্তান হয় তবে আপনি অনেক কিছু সম্পর্কে নাও জানতে পারেন। সুতরাং হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র সঙ্গে নিতে হবে।

১. রিপোর্ট ফাইল :

অবশ্যই আপনার প্রেসক্রিপশন, সকল টেস্ট রিপোর্ট, আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় ঔষধ নিতে হবে। হাসপাতালে আপনার ডাক্তার যথাযথ ডায়াগনোসিসের জন্য এসব প্রেসক্রিপশন, রিপোর্ট অবশ্যই দেখতে চাইবেন। প্রেসক্রিপশন, সকল টেস্ট রিপোর্ট, আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট একটি ফাইলে রাখুন যা আপনি সহজেই খুঁজে পাবেন।

২. শিশুর কাপড় :

ডেলিভারির চিন্তায় আমরা এতটাই টেনশনে থাকি যে শিশুর সুরক্ষার কথা একেবারেই মাথায় থাকে না। আপনার শিশুর জন্মের পরবর্তীতে যাতে সে সুরক্ষিত ও নিরাপদ থাকে সেজন্য আপনাকে কিছু হাল্কা সুতি কাপড়ের জামা, ন্যাপি, সুতি কাপড়ের কাঁথা, ন্যাপকিন, নবজাতকের ডায়াপার, মোজা, মাথার টুপি, নরম বেবি তোয়ালে ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আপনার হসপিটাল ব্যাগে গুছিয়ে নিতে হবে।

৩. মায়ের জামাকাপড় :

আপনার যদি নরমাল ডেলিভারি হয় তাহলে আপনাকে দুই-এক দিনের মধ্যেই ছেড়ে দেবে আর যদি সিজারিয়ান করা হয় তবে বেশ কয়েকদিন আপনাকে হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। কেয়েক দিনের জন্য কিছু পরিস্কার নরম জামাকাপড় নিয়ে নিন। গর্ভবতী নারীর জন্য হালকা সুতির আরামদায়ক জামাকাপড় সঙ্গে রাখায় ভাল। শীতকাল হয়ে থাকলে গরম জামাকাপড় ব্যাগে রাখতে ভুলবেন না।

৪. বিছানার চাদর, বালিশ, পাতলা কম্বল বা কাঁথা :

হাসপাতালে আপনার নিজের বিছানার চাদর, পাতলা কাঁথা বা কম্বল নিতে পারেন। আর যদি শীতকাল হয় তবে মোটা কম্বল আর আপনার বালিশও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। অনেক মানুষ আছেন যারা নিজের জিনিসপত্র ছাড়া অন্যদের জিনিসপত্র ব্যবহার করতে পারেন না। সুতরাং মাতৃত্বের মত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের জিনিসপত্র ব্যবহার করলে আপনার নিজের কাছে কিছুটা শান্তি লাগবে।

৫. ইলেকট্রিক কেটলী ও পানির বোতল :

আপনার ডেলিভারির সময় যখন তখন গরম পানির প্রয়োজন হতে পারে আর যদি শীতকাল হয়, তাহলে তো কথায় নেই। এজন্য পানি গরম করার জন্য ইলেকট্রিক কেটলী থাকলে তা আপনার খুব উপকারে আসবে। পানি খাওয়ার জন্য পরিষ্কার গ্লাস ও জগ সাথে রাখুন। কয়েকটি বিশুদ্ধ খাবার পানির বোতলও সঙ্গে রাখুন।

৬. স্যান্ডেল ও মোজা :

নরমাল হাঁটাচলা করার জন্য এক জোড়া স্যান্ডেল সাথে রাখুন, খেয়াল রাখবেন যাতে স্যান্ডেল স্লিপারি না হয়। এমন স্যান্ডেল নিবেন যেটি আপনি ওয়াশরুমেও ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি ইচ্ছা করলে দুই জোড়া স্যান্ডেলও আপনার সাথে রাখতে পারেন। অবশ্যয় আপনার সাথে মোজা রাখবেন, ডেলিভারির পরে প্রচন্ড ঠান্ডা লাগবে।

৭. নরম তোয়ালে :

তোয়ালে নিতে ভুলবেন না, তোয়ালে হলো আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মধ্যে অন্যতম। খেয়াল রাখবেন যাতে তোয়ালে নরম হয়। প্রসবের পর আপনার সন্তানকে নরম পরিস্কার তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে রাখতে হবে। অবশ্যয় কমপক্ষে দুটি তোয়ালে আপনার ব্যাগে রাখুন।

. মোবাইল ফোন ও চার্জার :

এখনকার সময়ে মোবাইল ফোন অত্যন্ত গুরুত্বপর্ণ জিনিস। আর এই সময়টিতে মোবাইল ফোনটি আপনার জন্য খুবই দরকারী হয়ে উঠবে। আপনার মোবাইল ফোনে বেশি করে টাকা রিচার্জ করে নিন। মোবাইল ফোনের চার্জার নিতে ভুলবেন না যেন।

৯. টয়লেট্রিজ :

প্রয়োজনীয় টয়লেট্রিজ সামগ্রী আপনার হসপিটাল ব্যাগে গুছিয়ে রাখুন যেমন: সাবান, কাপড় ধোয়ার পাওডার, টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, শ্যাম্পু, হ্যান্ড ওয়াশ, টয়লেট টিস্যু, ফেসওয়াশ ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস আপনার ব্যাগে গুছিয়ে রাখুন।
এছাড়া কিছু প্রসাধনী যেমন চিরুনি, আয়না, হেয়ার ব্যান্ড, লোশান, তেল ইত্যাদি একটি ছোট ব্যাগে গুছিয়ে রাখুন।

১০. শুকনো খাবার :

ঔষধ খাওয়ার সময় হালকা কিছু খাওয়ার জন্য আপনি কিছু শুকনো খাবার আপনার ব্যাগে আগে থেকেই গুছিয়ে রাখতে পারেন। ডেলিভারির পরে অনেকসময় মুখ শুকিয়ে যায়। এজন্য কিছু সুগার ফ্রি লজেন্স মুখে রাখতে পারেন আর সেজন্য এক প্যাকেট সুগার ফ্রি লজেন্স সংঙ্গে রাখতে পারেন।

১১. কাগজ ও কলম :

প্রয়োজনীয় কিছু লিখতে হতে পারে অথবা কিছু ফোন নাম্বরও লিখে রাখতে পারেন। আপনার মোবাইল ফোন কোন কারণে অকেজো হয়ে গেলে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আপনি আপনার অনুভূতির কথাও লিখে রাখতে পারেন। বিশেষ মুহূর্তের অনেক না বলা অনুভূতির কথা ডায়েরি বা নোটবুক এ লিখে রাখাতে পারেন আর সেজন্য আপনার কাগজ, কলম, ডায়েরি বা নোটবুক সাথে থাকতে হবে।

১২. ডায়াপার, ওয়াইপস এবং ন্যাপকিন :

ডেলিভারির পরে কিছু সময় পিরিয়ডের মতোই রক্ত যেতে পারে তবে মনে রাখবেন এটি পিরিয়ড না, এর জন্য আপনাকে ভাল মানের কিছু ন্যাপকিন আপনার ব্যাগে গুছিয়ে রাখুন। আপনার সন্তানের ত্বক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও আর্দ্রতামুক্ত রাখার জন্য বেবি ওয়াইপস এবং নবজাতকের জন্য উপযুক্ত ডায়াপার নিয়ে নিন।

১৩. অর্থ :

শুধু মাত্র ডেলিভারির জন্যই নয়, যেকোনো প্রয়োজনীয় সময়ে অতিরিক্ত টাকা পয়শা সাথে রাখতে হয়। সুতরাং প্রয়োজনে অতিরিক্ত টাকা পয়শা সাথে রাখুন। যদি নিজের কাছে রাখার মত অবস্থা না থাকে তবে বিশ্বস্ত কারো কাছে রাখুন এবং প্রয়োজনে চেয়ে নিতে নিন।

একটি মন্তব্য ‍প্রদান করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন