গর্ভাবস্থা প্রত্যেক গর্ভবতী মায়ের জন্য একদিকে যেমন খুশির কারণ, অন্যদিকে থাকে ভয় ও আশঙ্কা। তবে আশার কথা হলো সাধারণভাবে শতকরা ৯১ থেকে ৯৫ ভাগ গর্ভবতী মা গর্ভাবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটান সুষ্ঠুভাবে। আর বাকি যে ৫ থেকে ১০ ভাগ মায়েদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে জটিলতা। এর জন্য চাই গর্ভবতী সহ আত্মীয়স্বজনের সচেতনতা। কারণ, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে এবং সঠিক চিকিৎসা না করালে মা ও শিশু উভয়ের জন্য বিপদ হতে পারে।

বিপজ্জনক সমস্যাগুলো কখনো কখনো কোন সতর্ক সংকেত না দিয়েই হঠাৎ দেখা দিতে পারে। এজন্য দম্পতিকে এবং আত্মীয়স্বজনকে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভের লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। যেকোনো খারাপ অবস্থার জন্য আগে থেকে মানসিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। তা না হলে বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। নিকটবর্তী ক্লিনিক ও মাতৃসদন হাসপাতাল এর ঠিকানা জেনে রাখতে হবে। কিভাবে যেতে হবে সেটা জানা থাকলে কোন বিপদ সংকেত দেখলেই সহজে সেখনে নিয়ে যেতে অসুবিধা হবে না। প্রয়োজনীয় কিছু ফোন নম্বর ও সংগ্রহ করে রাখতে হবে, যেমন: যানবাহন বা অ্যাম্বুলেন্স, ক্লিনিক ও মাতৃসদন হাসপাতালের ফোন নম্বর।

ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা :

যেসব ক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের সময় মারাত্মক জটিলতা বা বিপদ ঘটার আশঙ্কা থাকে, সেই অবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে বলে। যেমন :

  • যদি গর্ভবতী মায়ের বয়স যখন ২০ বছরের কম হয়।
  • গর্ভবতী মা যদি ৩৫ বছরের বেশি বয়সে গর্ভধারণ করেন।
  • যদি গর্ভবতী মায়ের আগে চার বা তার অধিকবার গর্ভধারণ করে থাকেন।
  • আগে যদি কম ওজনের সন্তান জন্ম দেওয়ার ইতিহাস থাকে।
  • যদি আগে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকেন।
  • আগে যদি মায়ের গর্ভপাত হয়ে থাকে।
  • আগে যদি অপরিণত বা মৃত শিশু প্রসব করে থাকেন।
  • গর্ভবতী যদি দুই বছরের কম বিরতি দিয়ে গর্ভধারণ করেন।
  • পূর্ববর্তী প্রসবের সময় যদি কোন জটিলতা থেকে থাকে।
  • পূর্ববর্তী প্রসব যদি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
  • গর্ভবতী মায়ের উচ্চতা কম (চার ফুট ১০ ইঞ্চির কম) হলে।
  • প্রসবপথে কোনো সমস্যা থাকলে।

গর্ভকালীন বিপদের পূর্বাভাস বা লক্ষণ :

  • ডেলিভারির আগে কমপক্ষে সাত কেজি ওজন বাড়া উচিত। সুতরাং গর্ভাবস্থায় প্রতি মাসে ওজন না বাড়ালে বুঝতে হবে সেটি গর্ভকালীন বিপদের পূর্বাভাস বা লক্ষণ।
  • জিহ্বা, মুখমণ্ডল, হাতের তালু ও চোখের পাতার ভেতরের দিক ফ্যাকাসে হয়ে গেলে।
  • তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা হলে।
  • অবিরাম মাথাব্যথা থাকলে।
  • প্রথম তিন মাসের পরেও বমি হলে।
  • হাত, পা বা মুখ ফুলে গেলে বা পানি আসলে।
  • জরায়ুতে শিশুর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলে।

নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

  • যেকোনো সময় প্রসবপথে রক্ত আসলে।
  • তীব্র মাথাব্যথা হলে।
  • খিঁচুনি, অবিরাম বমি ও প্রচণ্ড জ্বর হলে।

গর্ভবতী ও তার আত্মীয়স্বজনের সচেতনতা ও প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে হবে। এর ফলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা থেকে মা ও শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব। তাই প্রয়োজনে সকলকে স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

একটি মন্তব্য ‍প্রদান করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন