একজন মা অন্তঃসত্ত্বা কিনা, তা বোঝার জন্য আমরা যে লক্ষণ অনুসরন করি তা হলো সময়মতো পিরিয়ড না হওয়া। সময়মত যদি আপনার পিরিয়ড না হয় বা বন্ধ থাকে তবে প্রেগনেন্সি টেস্ট করুন এবং দেখে নিন আপনি গর্ভবতী হয়েছেন কিনা। প্রেগনেন্সি টেস্ট করার আগেও আপনি কিছু লক্ষণ দেখে অনুভব করতে পারবেন আপনার গর্ভে সন্তান এসেছে। আজ আমরা সেই সকল ছোট ছোট  লক্ষণগুলো জেনে নিবো।

১. খাবারের স্বাদ ভিন্নঃ

হুট করে যদি আপনার অপছন্দের খাবারটি খাইতে ইচ্ছা হয় এবং আপনার কাছে সুস্বাদু হয়ে উঠে অথবা প্রিয় খাবারটি যদি বিশ্রী স্বাদ লাগে তাহলে আপনি গর্ভবতী বা অন্তঃসত্ত্বা হতে পারেন। এটি শুধুমাত্র খাবারের ক্ষেত্রে নয়, পানীয়ের ক্ষেত্রেও হতে পারে। যেমন ধরুন আপনি নিয়মিত চা পান করেন কিন্তু এখন চা আপনার সহ্য হচ্ছে না। হরমোনাল পরিবর্তনের কারনে মুলত এই সকল খাদ্যভ্যাসের পরিবর্তন হয়।

২. অখাদ্য খাওয়ার ইচ্ছাঃ

যদি আপনার খাবার নয় এমন জিনিস খেতে ইচ্ছে হয়, যেমন ধরুন পেষ্ট, মাটি বা চক তাহলে আপনি গর্ভবতী বা অন্তঃসত্ত্বা হতে পারেন। অখাদ্য খাওয়ার ইচ্ছাকে পিকা সিনড্রোম বলা হয়ে থাকে। পিকা সিনড্রোম সাধারণত শরীরে আয়রনের অভাব হলে দেখা দেয়। এছাড়া বিভিন্ন গঠনের বা আকৃতির জিনিস বা বস্তুও খেতে ইচ্ছা হতে পারে।

৩. বমি বমি ভাবঃ

এই লক্ষণটি সবারই জানা, আপনি যদি প্রত্যাশা করেন এবং আপনার বমি বমি ভাব হয় তবে আপনি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবেন যে, আপনি অন্তঃসত্ত্বা হতে পারেন।  সম্ভবত গর্ভাবস্থায় এই লক্ষণটি সবারই পরিচিত। সকালে ঘুম থেকে উঠে বমি বমি ভাব হওয়া বা বমি হওয়াটা ৭৫-৯০ শতাংশ গর্ভবতী মায়ের মধ্যে দেখা যায়।

৪. প্রচণ্ড ক্লান্তিঃ

এই সময় আপনার ভিতরে আপনার শিশুটি ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে আর সেই সাথে আপনার শরীর প্রস্তুত হচ্ছে। আপনার গর্ভধারণের এক সপ্তাহের মধ্যেই আপনি প্রচণ্ড ক্লান্তিতে ভুগতে পারেন। অনেক মহিলাকে অভিযোগ করতে দেখা যায় মাথা ব্যাথার জন্য, যা হরমোন সম্পর্কিত ব্যাপার। হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে মাথা ব্যাথা হতে পারে।

৫. ঘনঘন মূত্রত্যাগঃ

এই সময় আপনার ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসবে এবং আপনাকে বারবার বাথরুমে যেতে হতে পারে। অধিকাংশ মহিলাদের ক্ষেত্রে ১২ সপ্তাহের পরে এই সমস্যা থাকে না বা কমে আসে।

৬. পেট ফাঁপাঃ

আপনি যদি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে থাকেন তবে গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে শরীরে প্রজেস্টেরন হরমোনের আধিক্যের কারণে পেট কিছুটা ফোলা, ফাঁপা ও নরম মনে হতে পারে।

৭. স্তন ব্যাথা ও ফুলে যাওয়াঃ

আপনার স্তনদ্বয় কিছুটা স্ফীত হয়ে উঠবে এবং ব্যাথা ব্যাথা অনুভব করবেন। আপনি অন্তঃসত্ত্বা তা টের পাওয়ার আগেই আপনার স্তনদ্বয় কিছুটা ফুলে উঠতে পারে এবং নিপল আগের থেকে কিছুটা স্পর্শকাতর হয়ে উঠবে ও আপনার ত্বকের রঙেও পরিবর্তন আসবে।

৮. মেজাজ ওঠানামাঃ

আপনার বার বার মেজাজ ওঠানামা বা মুড সুইং বা মুড পরিবর্তন হবে যার ফলে কখনো আপনি উত্তেজিত হতে পারেন, আবার কখনোবা আবেগে অপ্লুত হয়ে যেতে পারেন। এটি অনেক সময় ক্ষতিকারক কারণও হতে পারে। প্রথম তিন মাসে হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে এটি হতে পারে। পরবর্তীতে এটি ধীরে ধীরে কমে যাবে।

৯. প্রাতঃকালীন অসুস্থতাঃ

সম্ভবত এই উপসর্গ টি সবচেয়ে কষ্টকর আপনার জন্য, প্রত্যেক দিন সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর আপনি যদি অনুভব করেন আপনি অসুস্থ, আপনার কেমন লাগবে!!!

১০. পেট ব্যাথাঃ

পেলভিক অঞ্চলে ব্যাথা অনুভব করতে পারেন। আপনার গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে পেটে ব্যাথা বা ক্র্যাম্পিং দেখা দিতে পারে। এটা পিরিয়ড ক্র্যাম্পের মতো নয়।

১১. ত্বকে র‍্যাশঃ

আপনি যদি প্রথম বারের মত অন্তঃসত্ত্বা হয়ে থাকেন তবে আপনার শরীরে র‌্যাশ হতে পারে। অনেকেই এ বিষয়টি জানেন না যে গর্ভাবস্থায় শরীরে র‌্যাশ হতে পারে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো যারা গর্ভ ধারন করেন সেই সকল মায়েদের শরীরে র‍্যাশ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

একটি মন্তব্য ‍প্রদান করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন