প্রথম সপ্তাহের মত এই সপ্তাহেও আপনি গর্ভধারণ করেননি। তবে এই সপ্তাহে আপনার ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়েছে যেটি আপনার সঙ্গীর শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয়ে প্রানের সঞ্চার করবে। শুক্রাণু ডিম্বানুর সংস্পর্শে জরায়ুর মধ্যে নিষিক্ত হবে এবং সেখানে ধীরে ধীরে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে আপনার সন্তান মানুষের আদল পাবে।

আপনি দ্বিতীয় সপ্তাহের গর্ভবতী! তবে গর্ভবতীর কোন লক্ষণ আপনার মধ্যে সরাসরি উপস্থিত থাকবে না। বাস্তবে, আপনার গর্ভাবস্থার পরীক্ষার জন্য আপনার সিস্টেমে পর্যাপ্ত হরমোন না হওয়া পর্যন্ত আপনি গর্ভবতী হয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে সক্ষম হবেন না। প্রায় চার সপ্তাহ পরে যখন আপনার পিরিয়ড হওয়া বন্ধ হবে তখন হয়ত আপনি বুঝতে পারবেন আপনি গর্ভবতী। এই সময় কিছু হরমোনাল পরিবর্তন আপনি অনুভব করতে পারবেন এবং কিছু উপসর্গ বুঝতেও পারবেন, যা আপনার গর্ভাবস্থার নিশ্চিত করবে। কিছু মহিলা খুবই উত্তেজিত বা আগ্রহী হয়ে আশা করেন যে তারা চার সপ্তাহের আগেই প্রাথমিক গর্ভাবস্থার লক্ষণগুলি অনুভব করতে শুরু করবেন। এটি অমুলক কিছু নয় এটি সম্ভব, এখানে কয়েকটি দেওয়া হলোঃ

স্পটিংঃ গর্ভধারণের প্রায় ৫ থেকে ১০ দিন পরে, ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে আপনার জরায়ুর দেওয়ালে ভ্রূণকে ছড়িয়ে দেবে।

ঘনঘন মূত্রত্যাগঃ এই সময় আপনার ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসবে এবং আপনাকে বারবার বাথরুমে যেতে হতে পারে।

স্তন ব্যাথাঃ আপনার স্তনদ্বয় কিছুটা স্ফীত হয়ে উঠবে এবং ব্যাথা ব্যাথা অনুভব করবেন।

ক্লান্তিঃ এই সময় আপনার ভিতর আপনার শিশুটি ধীরে ধীরে বেডে উঠছে আর সেই সাথে আপনার প্রস্তুত হচ্ছে। এ-সময় আপনি ক্লান্তি বোধ করবেন কারণ আপনার শরীর শিশুর বৃদ্ধির জন্য শক্তির ব্যবহার করবে।

প্রাতঃকালীন অসুস্থতাঃ সম্ভবত এই উপসর্গ টি সবচেয়ে কষ্টকর গর্ভাবস্থার, প্রত্যেক দিন সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর আপনি যদি অনুভব করেন আপনি অসুস্থ, আপনার কেমন লাগবে!!!

লক্ষণঃ

গন্ধপ্রবনঃ অধিকাংশ মহিলারা গন্ধপ্রবন হয়ে উঠেন যা স্বাভাবিকভাবে তেমন অসুবিধা সৃষ্টি করেনা।

মুড সুইংঃ আপনার বার বার মুড সুইং বা মুড পরিবর্তন হবে যার ফলে কখনো আপনি উত্তেজিত হতে পারেন আবার কখনোবা আবেগে অপ্লুত হয়ে যেতে পারেন। এটি অনেক সময় ক্ষতিকারক কারণ ও হতে পারে।

মাথা ব্যাথাঃ অনেক মহিলাকে অভিযোগ করেন মাথা ব্যাথার জন্য, যা হরমোন সম্পর্কিত ব্যাপার। হরমনাল পরিবর্তনের কারণে মাথা ব্যাথা হতে পারে।

আকৃষ্টঃ সঙ্গীর প্রতি বেশী আকৃষ্ট হতে পারেন।

তাপমাত্রা বৃদ্ধিঃ এই সপ্তাহে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

ব্যাথাঃ পেলভিক অঞ্চলে ব্যাথা অনুভব করতে পারেন।

আপনার করনীয়ঃ

  • সব ধরনের খাবার খাওয়া শুরু করুন। আপনাকে কি কি খেতে হবে তা জেনে নিন এবং একটি খাবার তালিকা করতে পারেন।
  • এখন কোন প্রকার মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না সুতরাং মানসিক চাপ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান।
  • এখনি ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই তবে আপনি গর্ভবতী কিনা নিশ্চিত হবার জন্য ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন।
  • আপনার সন্তান এখনো জরায়ুতে ভালোভাবে আটকায়নি সুতরাং ভারি কাজ করবেন না। হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন বা ব্যাবহার করবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন বা ব্যাবহার করুন।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড গ্রহন করুন অথবা ফলিক এসিড সমৃদ্ধ ফলমূল, শাকসবজী খাওয়ার অভ্যাস করুন।

একটি মন্তব্য ‍প্রদান করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন