অবিশ্বাস্য!!! এক সপ্তাহ গর্ভবতী আসলে গর্ভবতী নয়!!

সাধারণত মাসিক শুরুর প্রথম দিন হতেই গর্ভধারণের সময় গণনা করা হয়ে থাকে। কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে প্রতি মাসে মাসিকের পর হতেই নতুন ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়ে থাকে, যা এই দিন থেকে ১৪ দিন (এটি নির্ভর করে আপনার কত দিন পরপর মাসিক হয় এরং এর স্থায়িত্বের উপর) পরে শুক্রানুর সাথে মিলিত হয়ে গর্ভে সন্তান সৃষ্টি করে বা গর্ভবতী হয়ে থাকেন। আপনি যদি সন্তান নিতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন বা পরিকল্পনা করে থাকেন তবে এই সময়ে আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে শারীরিক মিলন করুন।

গর্ভাবস্থার নির্দিষ্ট সময় নির্ণয় করা খুবই কঠিন, তাই ডাক্তারা আপনার শেষ মাসিকের প্রথম দিনকেই গর্ভ ধারনের দিন হিসেবে গনণা করে থাকেন। আপনার শেষ মাসিকের প্রথম দিন হতে পরবর্তী ১৮০ দিন বা ৪০ সপ্তাহকে গর্ভধারণ এর সময় হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। ডাক্তাররা এই ৪০ সপ্তাহ বা ১৮০ দিন পরেই আপনার প্রসবের দিন নির্নয় করে থাকেন।

আপনি যদি প্রত্যাশিত হয়ে থাকেন তবে আপনি হয়ত মনে করতে পারেন এটিই আপনার গর্ভাবস্থার প্রথম সপ্তাহ। চার সপ্তাহ পরে চেক করে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি গর্ভবতী হয়েছেন কিনা। প্রতি মাসে মাসিক এর পরে আপনার শরীরে কিছু হরমনাল পরিবর্তন হয়ে থাকে। এই হরমনাল পরিবর্তনের কারণ হলো গর্ভধারণের জন্য আপনার শরীরকে প্রস্তুত করা।

লক্ষণঃ

মনে রাখবেন, আপনি যে লক্ষণগুলি অনুভব করছেন সেগুলি আপনার সময়ের জন্য আদর্শ কারণ আপনি আসলে এখনো গর্ভবতী নন। এই লক্ষণগুলি তিন থেকে সাত দিন স্থায়ী হতে পারে ।

যোনি দিয়ে রক্তপাতঃ আপনার যোনি দিয়ে রক্তপাত বা ঋতুস্রাব হতে থাকবে। এটির কারণ হলো আপনার শরীরে গত মাসের নিষ্ক্রিয় ডিম বা ডিম্বাণু।

কোমরে ব্যাথা ও খিল ধরাঃ এই সময় আপনার কোমরে ব্যাথা অনুভব করবেন এবং মাঝে মাঝে খিল ধরার মতো মনে হতে পারে।

মুড সুইংঃ এই সময় আপনার বার বার মুড সুইং বা মুড পরিবর্তন হবে যার ফলে কখনো আপনি আবেগে অপ্লুত হতে পারেন আবার কখনোবা উত্তেজিত হয়ে যেতে পারেন। এটি অনেক সময় ক্ষতিকারক কারণ ও হতে পারে।

মাথা ব্যাথাঃ অনেক মহিলাকে অভিযোগ করেন মাথা ব্যাথার জন্য যা হরমোন সম্পর্কিত ব্যাপার, হরমনাল পরিবর্তনের কারণে মাথা ব্যাথা হতে পারে।

আপনার করনীয়ঃ

  • খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করুন। যেমন ধুমপান, মদপান এবং অন্যান্য মাদক দ্রব্য থেকে বিরত থাকুন।
  • আপনি যদি সন্তান নিতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন তবে এখন থেকেই সুস্থ-সবল জীবন যাপন করার চেষ্টা করুন।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন বা ব্যাবহার করবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন বা ব্যাবহার করুন।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড গ্রহন করুন অথবা ফলিক এসিড সমৃদ্ধ ফলমূল, শাকসবজী খাওয়ার অভ্যাস করুন।
  • ডিম্বাণুর সর্বোচ্চ উর্বরের সময় সঠিক ভাবে নির্ণয় করুন এবং সেই সময় শারীরিক মিলন করুন। কিভাবে ডিম্বাণুর সর্বোচ্চ উর্বরের সময় সঠিক ভাবে নির্ণয় করতে হয় তা জানতে কমেন্ট করুন বা আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন

একটি মন্তব্য ‍প্রদান করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন