আমাদের আশপাশে কেউ যখন কোন সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে বা কোন কাজে ভুল করে তখন আমরা তাকে গঠনমূলক সমালোচনা না করে তার তিরস্কার করি। আর সেই জন্যই আজ আমরা আলোচনা করবো কিভাবে গঠনমূলক সমালোচনা করে তার ভুল সংশোধন এর জন্য সাহায্য করতে পারি।

পারস্পরিক সম্পর্ক :

অধিকাংশ মানুষই সমালোচনা শুনতে একটুও পছন্দ করেন না, তা যে ধরনেরই সমালোচনা হোক না কেন। সেই জন্যই ভুক্তভোগীর সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন সে ব্যাপারটা খুব ভালো করেই চিন্তা করতে হবে। আপনাদের মধ্যে যদি এমন সুসম্পর্ক থাকে এবং আপনি যদি মনে করেন যে, উনি আপনার গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করবেন তবে সেক্ষেত্রে আপনি অগ্রসর হতে পারেন। আর যদি আপনাদের সম্পর্ক সুসম্পর্ক না হয়ে থাকে বা ভুক্তভোগী আপনার সমালোচনা গ্রহন না করেন তবে আপনাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে খারাপ হয়ে যেতে পারে।
কারো ভুল ধরিয়ে দেয়ার পর সেটা নিয়ে একটি কার্যকরী সমাধানে আসতে হবে এবং এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারো কাজের মূল্যায়ন করার পর নিজের যাবতীয় পরামর্শ ও সমাধানের উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে। যেন ভবিষ্যতে তার এই ভুলগুলো আবার না ঘটে।

সঠিক সময় ও সুযোগ :

কারো গঠনমূলক সমালোচনা করলে শুরুতেই খেয়াল রাখতে হবে তা গ্রহণ করার জন্য সে মানসিকভাবে প্রস্তুত আছে কিনা। কাজে বাধা বিপত্তি থাকার কারনে তার মনের অবস্থা তখন সমালোচনা গ্রহণ করার মত অবস্থায় থাকে না। সুতরাং সময় সুযোগ করে তার সাথে কি করনীয় সে সম্পর্কে আলোচনা করা যায়।

মনের অবস্থা :

কোন ব্যক্তি যদি তার কোন কাজে ব্যর্থ হন, স্বাভাবিক ভাবেই তার মনের মধ্যে অশান্তির হয় তার খারাপ লাগে। সেই অবস্থায় তার কাজের ভুল ধরিয়ে দেয়া আসলেই উচিত নয়। তাই তার মনের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে এবং তার পরেই তার দিকে এগোতে হবে। ভুল নিয়ে কথা বলতে গেলে সে রেগে যাবে কিনা বা তার মেজাজ খারাপ হবে কিনা অথবা তার মন খারাপ হবে কিনা এই ব্যাপারগুলো মাথায় রাখতে হবে।

অনুপ্রেরণা :

যেকারো কাজে ব্যর্থ হলে যে কারো মনের মধ্যে হতাশা কাজ করে। সেই কাজ পুনরায় শুরু করতে মন থেকে আর সায় দেয় না। তাই কারো ভুল নিয়ে কথা বলতে গেলে অবশ্যই তাকে ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা দিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যর্থতার জন্য উৎসাহ হারিয়ে ফেলার আশংকা সৃষ্টি হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এটি মারাত্নক ক্ষতি কারন হতে পারে। তাই ভুক্তভোগীর কাঁধে হাত রেখে তার হারানো আত্নবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে তাকে সাহস দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে সে যেন নব উদ্যমে আবারও কাজ করতে পারে।

প্রত্যাশা ব্যাক্ত :

একজন মানুষ যখন পৃথিবীতে আসে, তারপর থেকেই তার জীবনের বিভিন্ন ধাপে তার প্রতি তার আপনজনদের হাজার হাজার আশা ভরসা বা প্রত্যাশা থাকে। তাই কেউ যখন কোন কাজে ব্যর্থ হয়, তাকে বোঝাতে হবে যে তার নিকট সকলের অনেক প্রত্যাশা। তাই তা পূরণের দায়িত্বও একমাত্র তার। সুতরাং আপনজনদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য হলেও নিজেকে আবারও কাজে শতভাগ দিতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে।

একটি মন্তব্য ‍প্রদান করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন